প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন মাঠপর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে চলমান উত্তম চর্চা সমূহ

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন মাঠপর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে চলমান উত্তম চর্চা সমূহ

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ে বিদ্যালয়ের শিশুদের শারীরিক মানসিক ও মানবিক বিকাশ উন্নয়নের জন্য যেসব উত্তম চর্চা চালু করা হয়েছে তা সদয় অবগতির জন্য প্রকাশ করা হলো।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন মাঠপর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে চলমান উত্তম চর্চা (Best Practice)-এর তালিকাসমূহ:

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে চলমান উত্তম চর্চা সমূহ

১। মিড ডে মিল (টিফিন বক্স)

শিশুরা বাড়ি থেকে মায়ের দেয়া খাবার স্কুলে আনবে এবং টিফিনের সময় তা মিলেমিশে খাবে। এতে শিশুরা পড়াশুনায় মনোযোগী হবে এবং একে অপরের সাথে ভ্রাতৃত্তবোধ গড়ে উঠবে।

২। One Day One Word

বিদ্যালয়ে শিশুরা প্রতিদিন একটি করে নতুন শব্দ (বাংলা ও ইংরেজি) শিখবে | এতে শিশুর শব্দ ভান্ডার বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার উপর শিশুর দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

৩। স্মাইলি 

শিশুর ভালো কাজের জন্য ধন্যবাদসূচক একটি করে স্মাইলি কার্ড প্রদান করা হবে, এতে তার ভালো কাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও মূল্যবোধ বৃদ্ধি পাবে।

৪। আমাদের বিদ্যালয় আমরাই গড়ব

বিদ্যালয়ের স্থানীয় অংশ্লীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণে একটি পরিকল্পিত মানসম্মত বিদ্যালয় গড়ে তোলা। এর উল্লেখযোগ্য দিক হলো নবীন বরণ, মিড ডে মিল দেয়ালিকা প্রকাশ, শ্রেণি কক্ষ সজ্জিতকরণ, পাঠাগার স্থাপন, অংশীজনের মালিকানাবোধ সৃষ্টি, বিভিন্ন সংগঠন গড়ে তোলা।

৫। Lost And Found Box

শিশুদের মাঝে সততার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য বিদ্যালয়ে “লস্ট এন্ড ফাউন্ড’ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কোন কিছু হারিয়ে গেলে এই বক্সে এসে খোজ করবে অথবা মালিককে খুজে বের করে তার কাবে পোছে দিবে।

৬। আমার স্বপ্ন আমার স্কুল

সকল অংশীজনের সক্রিয় সহযোগীতায় রঙিন ও শিশুবান্ধব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা।

৭। ক্লাস পার্টি

শিশুদের আতুবিশ্বাসী গড়ে তুলতে প্রতিমাসে বিদ্যালয়ে একটি/দুটি করে ক্লাস পার্টির আয়োজন করে এবং সবার সামনে শিশুকে কিছু বলতে বলা। ফলে তার ভিতরের জড়তা কেটে যাবে এবং শিশু আত্মবিশ্বাসী হবে৷

৮। শ্রেণি কক্ষে প্রশ্নপত্র উপস্থাপন ও পুরস্কারের মাধ্যমে পাঠদান

বিদ্যালয়ের ৪র্থ থেকে ৫ম শ্রেণির ক্লাশে প্রশ্নবক্স তৈরী করে শিক্ষক পাঠদানের পর শিক্ষার্থীরা পাঠের না বুঝা বিষয়ে প্রশ্ন তৈরী করে প্রশ্নবক্সে ফৈলবে। ক্লাস ক্যাপ্টেন প্রশ্ন সংগ্রহ করে শ্রেণি শিক্ষককে দিলে পরের দিন শিক্ষক আবার বিষয়গুলো পড়াবেন এবং সপ্তাহ শেষে ঘারা প্রশ্ন করছে তাদের মধ্যে লটারীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করতে হবে।

৯। মহানুভবতার দেয়াল

বিদ্যালয়ের একটি দেয়ালে ২/৩ সাড়ি হক লাগিয়ে সেগুলোতে অব্যবহৃত কাপড় চোপর ঝুলিয়ে রাখবে, যাদের প্রয়োজন আছে তারা সেটা নিয়ে যাবে।

১০। সেরা মা

শিশুদের কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে মায়েদেরকে নম্বর প্রদান করা হয় এবং মাস শেষে সর্বোচ্চ নন্বর প্রাপ্ত মাকে সেরা হিসেবে নির্বাচন করে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

আরও দেখুন- 

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রচলিত ইনোভেশন আইডিয়া

১১। সততার দোকান

বিদ্যালয়ে শিশুদের পাঠদানের জন্য উপকরণ যেমন: রাবার, পেন্সিল, কলম, খাতা বক্সে রেখে দেওয়া থাকে। সাথে দামের তালিকা দেয়া থাকে। শিশুরা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস তালিকা থেকে মুল্য দিয়ে জিনিস নিয়ে যায়। এতে তাদের মধ্যে সসতার
মূল্যবোধ তৈরি হবে।

১২। কর্মবীর

শ্রেণিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক দল গঠন করে শ্রেণি শিক্ষক দলনেতাকে কর্মবীর উপাধি দেন। প্রত্যেক কর্মবীরের একটি করে দল ও একটি একাউন্ট বুক প্রদান করা হয়। প্রতিটি শিখনফল অর্জন বা ভাল কাজের স্থবীকৃতিসরূপ সদস্যগণ একটি করে মুক্তর প্রতীক লাভ করে এবং তা একাউন্টে জমা হয়। একাউন্টে প্রতিটি মুক্তর প্রতীক জমা হলে একটি করে গোলাপ দেওয়া হয়। ১২টি গোলাপ অর্জিত হলে একটি গোলাপের স্টিক এবং ১২টি স্টিক অর্জিত হলে একটি গোলাপের মুকুট দেওয়া হয়। এভাবে সার্বিক কার্যক্রম জোরদার করণে সকল শীক্ষার্থীদের ‘সফলভাবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম, এবং প্রতিটি পাঠের শিখনফল অর্জন করা সম্ভব৷

১৩। শুদ্ধাচার ডায়রী লিখন ও মনিটরিং

শিশুকে সৎ, আদর্শবান ,সহনশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তার প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য কাজ গুলো ডায়রীতে লিখা এবং রাতে বেলায় পঠনের অভ্যাস করানো হয়। এ কাজের মধ্য দিয়ে শিশুকে সৎ ও আদর্শবান নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

১৪। মতামত বক্স

বিদ্যালয়ে একটি বক্স স্থাপন করা হবে । অভিভাবক, শিক্ষার্থী অথবা যে কোন ব্যক্তি তার মতামত বক্সে ফেলতে পারবেন। যা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।

১৫। সজ্জিত প্রাক-প্রাথমিক কক্ষ

শিশুদের আনন্দ ঘন পরিবেশে খেলা খুলার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে শ্রেণি কক্ষকে সজ্জিত করা হয়।

১৬। রঙিন স্কুল 

শিশুদের আনন্দ ঘন পরিবেশে খেলা ধুলার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে বিদ্যালয়কে বিভিন্ন রং এ সজ্জিত করা হয়।

১৭। শ্রেণি ভিত্তিক ফুলের বাগান

বিদ্যায়ের পরিবেশ মনোরম করতে বিভিন্ন ধরনের ফুলের টব ও বাগান তৈরী করা হয়৷

১৮। ক্লাসরুম দেয়ালিকা

বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মাসিক, ত্রৈ মাসিক, বার্ষিক পত্রিকা প্রণয়ন করে দেয়ালে প্রদর্শন ৷ এতে শিশুদের লেখার প্রতি আগ্রহ বাড়ে এবং সৃজনশীলতা প্রকাশ পায়।

১৯। ক্লাসরুম লাইব্রেরি

প্রত্যেক ক্লাসের কর্ণার শিশুদের পঠন উপযোগী বই দিয়ে একটি করে বুক কর্ণার স্থাপন করা। যাতে শিশু অবসর সময়ে এসব বই থেকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান আরোহন করতে পারে।

২০। ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব

বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের মধ্যে বা অতিরক্তি কক্ষ থাকলে সেখানে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব স্থাপন করার জন্য নিয়ম ও উদ্দেশ্যবলী বোর্ড লাগিয়ে বিভিন্ন মনিষীর বাণী ব্যবহার করে ক্লাবের নির্ধারিত স্থানে সজ্জিত করা প্রয়োজন। ৩য় শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণির নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে একজন দায়িত্প্রাপ্ত শিক্ষক কর্তৃক এ ক্লাব পরিচালিত হবে। ইংরেজি বিষয়কে সহজ ও বোধগম্য করতে ও ইংরেজি ভাষায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে কখোপকথন করানোর অনুশীলন করাই হবে এর উদ্দেশ্য।

Primary School Innovation Idea

২১। প্রাথমিক চিকিৎসালয় / স্বাস্থ্য কর্ণার/ ক্ষুদে ডাক্তারখানা

বিদ্যালয়ে পরিত্যক্ত রুম থাকলে সেটা প্রাথমিক চিকিৎসালয় হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এটা ক্ষুদে ডাক্তারদের সাণ্তাহিক মিটিংরুম হবে। এখানে থাকবে ফাস্ট এইড বক্স, ওয়েট মেশিন, হাইট মিসারিং স্কেল, ওরাল স্যালাইন, স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে নানাবিধ তথ্য সম্বলিত পোস্টার, ক্ষুদে ডাক্তারদের এপ্রোন। মাসে একবার স্যাটেলাইট ক্লিনিক এর সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে।

২২। সাফল্য বোর্ড/ সফলতার গল্প

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পধন্ত যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী কর্মজীবনে চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করেছেন তদের ছবিসহ সফলতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সম্বলিত একটি বোর্ড।

২৩। বিদ্যালয় ভিত্তিক রিডিং প্রতিযোগিতা

প্রতি শনিবার বাংলা বা ইংরেজি বিষয়ে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট এর মাধ্যমে রিডিং প্রতিযোগিতা নেয়া হবে। ১ মিনিটে শিক্ষার্থী যতটি শব্দ পড়তে পারবে তা ফরম্যাট লিখতে হবে। এভাবে ৪ বার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গড় করে শিক্ষার্থীদের রিডিং দক্ষতা যাচাইপূর্বক দক্ষতা বৃদ্ধি করা যাবে।

২৪। শিক্ষার্থীদের সামাজিক শিষ্ঠাচার ও নৈতিকতা শিখন কৌশল

দৈনিক সমাবেশে শিশুদের নিয়ে নিয়মিতভাবে শিষ্ঠাচার ও নৈতিকতা বিষয়ে আলোচনা করা হবে। প্রতিমাসে অন্তত: একদিন শিক্ষার্থীদের পিতামাতাকে বিদ্যালয়ে এনে শিক্ষার্থীদের দিয়ে স্ব স্ব পিতামাতাকে সেবা করা/ কাজের সহযোগিতা করা/মার্জিত ব্যবহার শিখানোর ব্যবস্থা নেওয়া।

২৫। চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে শিক্ষা উপকরণ তৈরি

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষা উপকরণ বিভিন্ন রং এবং তুলির মাধ্যমে তৈরি করবে। তৈরিকৃত উপকরণগুলোর মধ্যে কিছু উপকরণ বাধাই করে শ্রেণিকক্ষের দেওয়ালে আটকিয়ে রাখা হবে। বাকী উপকরণ পাঠদানের সময়
শ্রেণিশিক্ষক শ্রেণিকক্ষে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হবে। তৈরিকৃত উপকরণগুলো মানসম্মত ভাবে তৈরি ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে উপকরণগুলো সংরক্ষণে রাখার জন্য উন্নত মানের সেলফ এর ব্যবস্থা করতে হবে।

২৬। ফেলনা জিনিসে তৈরি গাছ, শব্দ শিখব বারো মাস

কাঠ বা বাশের তৈরি একটি গাছ। গাছে বুলানো হবে ফেলে দেয়া বা পরিত্যক্ত বিভিন্ন রাখা হবে। বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী বন্তুগুলো সাজানো হবে। প্রতি মাসে অন্তত একবার গাছটি দেখে শিশুদের পরিচিত শব্দগুলো শেখানো হবে।

About adminbd

John Romeo is a content writer.

View all posts by adminbd →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *